আমাদের পেকুয়া নিউজপেকুয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কোটি কোটি টাকা নেতা ও কর্মচারীদের পকেটে! | আমাদের পেকুয়া নিউজ পেকুয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কোটি কোটি টাকা নেতা ও কর্মচারীদের পকেটে! | আমাদের পেকুয়া নিউজ

শিরোনাম : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কাউন্সিলর গরীবদের ফিরিয়ে দিলেও দোকান থেকে খাদ্য কিনে দিলেন ভাইস চেয়ারম্যান জেসি চৌধুরী চকরিয়ায় কর্মহীন ৫০০ শ্রমজীবি মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পাঠালেন যুবলীগ নেতা কছির চকরিয়া পৌরসভার কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ উদ্বোধনে মেয়র আলমগীর চৌধুরী চকরিয়ায় রাইসমিল থেকে ৪১ মেট্টিক টন নিন্মমানের চাল জব্দ, মালিককে জরিমানা কাল ভি‌ডিও কনফা‌রেন্সে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত উদ্যোগে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের সুরক্ষা উপকরণ তুলে দিলেন সাংসদ জাফর আলম

পেকুয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কোটি কোটি টাকা নেতা ও কর্মচারীদের পকেটে!

প্রকাশ: ২০২০-০২-২৩ ১৮:৩২:৪৯ || আপডেট: ২০২০-০২-২৩ ১৮:৩৪:৩৪

মো: ছফওয়ানুল করিম:

পেকুয়া বাজার ব্যবসায়ীদের বৃহত্তর সংগঠন পেকুয়া বাজার ব্যবসায়ী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:। ‘পেকুয়া বাজার সমিতি’ নামে অধিক পরিচিত এ সমবায় সমিতিটি। ১৯৯১ সালে মাত্র কয়েকজন ব্যবসায়ী দৈনিক সামান্য টাকা জমিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করলেও বর্তমানে সমিতিটির সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬ শত জন। স্থাবর অস্থাবর সম্পদ, নগদ টাকা সহ সব মিলিয়ে তাদের ব্যালেন্স এখন ৭ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা। সমিতিটি সমবায় নিবন্ধন ভুক্ত হয় ১৯৯৫ সালে আর কালব্ এর সদস্য ভুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে।

জানাযায়, সমিতিটির ২০২০ সালের ৯ম ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মামলা পাল্টা মামলায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সমিতির ভতিষ্যত। তাছাড়া ইতিমধ্যেই সমিতির কোটি কোটি টাকা প্রদর্শিত ও অপ্রদর্শিতভাবে নেতা ও সমিতির কর্মচারীদের পকেটে চলে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন সমিতির সাধারণ সদস্যরা। এতে করে নিজেদের আমানতের টাকার নিশ্চয়তা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার গ্রাহক। এছাড়াও সমিতির আইনী দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ট্রেজারার পদে বছরের পর বছর নির্বাচন না দিয়ে নির্বাহী প্রধানের পদে থাকা জৈনক ব্যক্তি ও বিভিন্ন পদে থাকা নেতারা সমিতির কোটি কোটি টাকা ব্যক্তিগত সুবিধার্থে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমিতির ৭ কোটি টাকা ও কালব থেকে ঋণ নেয়া প্রায় ১ কোটি টাকা সহ মোট ৮ কোটির টাকার মধ্যে সাধারণ সদস্যদের ঋণ দিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। বাজার ব্যবসায়ীদের কাছে ২ লাখ টাকা মত ক্ষুদ্র (শক্তি) ঋণ দিলেও বাকী টাকা অপ্রদর্শিতভাবে নেতা এবং সমিতির অফিসের কর্মচারীদের পকেটেই ঘুরছে বলে অভিযোগ সাধারণ সদস্যদের। এমতাবস্থায় যতদ্রুত সম্ভব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে সমিতির ৯ ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমিতিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা। অপরদিকে সমিতির দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা তাদের দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে বিশেষ এক ব্যক্তিকে এডহক কমিটি বা অন্তর্বতীকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সদস্য করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এমনকি উপজেলা এবং জেলা সমবায় অফিসারদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন ভূঁয়া ডকুমেন্ট তৈরী করে আইনী মারপ্যাঁচে ফেলে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করছেন।

সমিতির সাধারণ সদস্য ও ভোটাররা জানান, গত ১৯ জানুয়ারী সমিতির ৯ম ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ ছিল। এ নির্বাচনে সভাপতি পদে ৩জন, সহ-সভাপতি পদে ২ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ২ জন, ৩ টি ডিরেক্টর পদের বিপরীতে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু বাঁচাই পর্বে সভাপতি পদে ঋণ খেলাপির দায়ে ১ জনের মনোনয়পত্র অবৈধ ঘোষণা ও অপর এক প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ব্যাক্তিগত সমস্যার কারণ দেখিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলে একমাত্র প্রার্থী মিনহাজ উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪ এর ৩২(১) বিধি মোতাবেক নির্বাচনের দিন নির্বাচনোত্তর বিশেষ সাধারণ সভায় অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচিত ঘোষণা করলেই কেবল তারা নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে ৬ মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত করে দেন মহামান্য হাইকোর্ট। সমিতির সদস্য হাজী গিয়াউদ্দিনের দায়ের করা রীট পিটিশন মামলা নং ৩৯০/২০২০ মূলে হাইকোর্ট ডিভিশনের মাননীয় বিচারপতি জে.বি.এম হাসান ও বিচারপতি এমডি খাইরুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১৬ জানুয়ারী এ আদেশ দেন। ফলে নির্বাচনের আগের দিন এ আদেশ সমিতির কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে ১৮ জানুয়াারী নির্বাচন কমিটির জরুরী সভা ডেকে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন।

অপরদিকে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে সিএমপি মামলা দায়ের করেন সমিতির চেয়ারম্যান হাজী আখতার আহমদ। যার নং- ৫৮/২০২০। এরই প্রেক্ষিতে ২১ জানুয়ারী আপিল বিভাগের এক আদেশে হাইকোর্টের রীট পিটিশনের আদেশ ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেন। কিন্তু ততক্ষণে মূল নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায় এবং এ আদেশের একদিন পর অর্থাৎ ২২ জানুয়ারী পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। এতে নতুন করে জঠিলতা তৈরী হয়। ওই দিনই উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো: কামাল পাশা কক্সবাজারের সরকারী কৌশলীর কাছে এ বিষয়ে আইনগত মতামত চেয়ে একটি চিঠি দেন এবং ওই একই দিনে সরকারী কৌশলী মোহাম্মদ ইসহাক সমবায় বিধিমালা ২০০৪ (সংশোধিত) এর বিধিমালা ২২.৩ এর বিধান উল্লেখ করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নবনির্বাচিত সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন সহ সরকারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অন্তবর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি বা ‘এডহক কমিটি’ গঠন করে পরবর্তী পদক্ষেপের পক্ষে মত দেন। এরই প্রেক্ষিতে জেলা সমবায় অফিসার ২ ফেব্রুয়ারী ১৪৯ নং আদেশের মাধ্যমে ‘নবনির্বাচিত সভাপতি’ ও ২ জন সরকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি এডহক কমিটি গঠন করে আদেশ জারি করেন।

এর পরেই একই সরকারী কৌশলী মোহাম্মদ ইসহাক স্মারক নং জিপি/কক্স/২০২০/১২ মূলে জেলা সমবায় অফিসারের ১৪৯ নং আদেশের বিরুদ্ধে আরেকটি মত দেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন সমবায় সমিতি আইন ২০০১ এর (সংশোধ ২০০২ ও ২০১৩) এর ১৮ ধারার ৫ উপধারার বিধানমতে পূর্বতন নিয়মিত ব্যবস্থাপনা কমিটি মেয়াদের মধ্যে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করতে না পারিলে নিবন্ধক সমিতির সদস্য সরকারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ১২০ দিনের জন্য অন্তর্বতী ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ করিবেন। ওই ধারায় আরো উল্লেখ আছে যে, বিলুপ্তকৃত ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন সদস্য অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য লাভের যোগ্য হবেননা। তিনি আরো মত দেন জেলা সমবায় অফিসার আইনের ১৮(৫) এর বিধান মতে অন্তর্বতী ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ না করে ব্যবস্থাপনা কমিটির শূণ্যপদ পূরণ সংক্রান্ত ২০(২) ধারার বিধানের আলোকে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করেছেন যা দুটি ধারার মধ্যে সাংঘর্ষিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আর তাই আইনগত কর্তৃত্বহীন উক্ত অন্তর্বতীকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল করে সংশিষ্ট আইন ও বিধি বিধান মতে ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

স্থগিত নির্বাচনের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ইকবাল হোছাইন, ডিরেক্টর প্রার্থী মাঈন উদ্দিন সহ আরো অনেকে জানান, “আমরা যখন চুড়ান্ত প্রচার শেষে নির্বাচনের দিনক্ষন গুনছিলাম ঠিক তখনিই নির্বাচনটি বন্ধ হয়ে গেল। মহামান্য সুপ্রীম কোট যখন ওই আদেশ স্থগিত করলেন তখন কমিটির মেয়াদ চলে যায়। আবার যখন অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠিত হল তখন শুরু হল নতুন আইনী জঠিলতা। মামলা-পাল্টা মামলায় পেকুয়ার বৃহত্তম এ সমবায় সংগঠনটি জর্জরিত হয়ে গেছে। আইনী জঠিলতা ও মারপ্যাঁচের মধ্যে আটকে আছে সমিতিটির ভবিষ্যত। সমিতির সাধারণ সদস্যরা তাদের আমানত নিয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।”

সমিতির নির্বাচন কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪ এর ৩২(১) বিধি মোতাবেক নির্বাচনের দিন নির্বাচনোত্তর বিশেষ সাধারণ সভায় অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচিত ঘোষণা করলেই কেবল তারা নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন। কিন্তু ১৯ জানুয়ারী হাইকোর্টের নিদের্শে নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই সেদিন কোনপ্রকার বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ নির্বাচন কমিটির গুটিকয়েক সদস্য ‘বিশেষ সুবিধা’ নিয়ে রহস্যজনকভাবে নির্বাচনের অনেক আগেই ৫ জানুয়ারী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত একজনকে নজিরবিহীনভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করে একটি প্রত্যয়ন পত্র দেন যার আইনী কোন বৈধতা নেই। যা বিধান অনুযায়ী নির্বাচনের দিন বিশেষ সাধারণ সভায় সদস্যরা দেয়ার কথা ছিল তাই তারা দিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিটি।

সদস্যরা বলছেন, উপজেলা সমবায় অফিসার কামাল পাশা ‘নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে’ এর স্থলে ‘হল’ উল্লেখ করেই কামিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। এতে করে মারাত্মক আইনী জঠিলতা তৈরী হয় যা একজন সরকারী কৌশলীর দুই ধরনের মতামত দেয়ার মাধ্যমে আরো কঠিতম রূপ ধারণ করে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও পেকুয়া উপজেলা সমবায় অফিসার মো: কামাল পাশা জানান, “বিভিন্ন আইনী জঠিলতার কারণে পেকুয়া বাজার ব্যবসায়ী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন এর নির্বাচন আপাতত স্থগিত আছে। অন্তবর্তীকালীন কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন জেলা সমবায় অফিসার বিধি মোতাবেক যে সিদ্ধান্ত দিবেন আমরা সেটিই কার্যকর করব।”

এ বিষয়ে জানতে জেলা সমবায় অফিসার মো: ইমরান হোসেনের সাথে বেশ কয়েকঘন্টা ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হলেও তার কোন প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধক আশীষ কুমার বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কাগজপত্র না দেখে আমিতো কোন মন্তব্য করতে পারবনা তবে আমি যতটুকু জানি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী মহোদয়ের মধ্যে কথা হয়েছে সেখানে আমাদের রেজিষ্ট্রারও ছিলেন। সুতরাং বিষয়টি সর্ব্বোচ্চ মহলের নলেজে আছে। ওনারা যে সিদ্ধান্ত দেন সে অনুযায়ী কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এদিকে সমিতির কোটি কোটি টাকা রক্ষা ও লুটেরা কর্মচারীদের অপসারণ করে পেকুয়ার অন্যতম সমবায় সমিতিটি রক্ষা করতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ সদস্যরা।

ট্যাগ :

সম্পাদকীয় বার্তা

error: কপি করা আইনত অপরাধ